বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট :
সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফয়জুল হক (৪৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার ওই মাদ্রাসার হিফজ শাখায় শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলায়। শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি মাদ্রাসা ছেড়ে জৈন্তাপুরে নিজ এলাকায় চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশু সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফিরে যায়। এরপর তারা আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে শিশুরা অভিযোগ করে, তাদের প্রায় প্রতি রাতে শিক্ষকের কক্ষে যেতে বাধ্য করা হতো। সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হতো এবং কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করা হতো বলে তারা অভিযোগ করে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনের পর শিশুটির স্তন থেকে পুঁজ বের হচ্ছিল। পরে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, স্তনে জোরে কামড় দেওয়ার কারণে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে এমন সমস্যা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি; বিষয়টি তদন্ত ও চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা।
অভিভাবকদের অভিযোগের পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে পুলিশের অভিযানে তাকে জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ না করে বিয়ে না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’—এমন মন্তব্য করেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফয়জুল হককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী দুই শিশুর মেডিকেল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশুদের নিরাপত্তা, মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষক অতীতে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।