জাফলং দেখার আশা অমিলই রইল নুসরাতের, গেইটলক বাস নিয়ে নিল প্রাণ। বেপরোয়া গেইটলক বাস নিয়ে নিল মাদ্রাসাছাত্রী কিশোরীর প্রাণ।
জাফলংয়ের পাহাড় দেখবে, ঝরনার পানিতে পা ভিজাবে—এমনই একটি ছোট্ট আশা ছিল ১৫ বছরের নুসরাত জাহান তাসনিমের। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দুলাইরপাড় থেকে পরিবারের সঙ্গে সেই আশা পূরণ করতেই এসেছিল সিলেটে।
কিন্তু কে জানতো, জাফলং যাওয়ার পথে থেমে যাবে তার জীবনের যাত্রা!
সোমবার সকালে হয়তো নুসরাতের চোখে ছিল ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ। সামনে ছিল জাফলং—প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। সঙ্গে ছিলেন আপনজন। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের চিকনাগুল এলাকায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডের গেটের সামনে মুহূর্তেই সব আনন্দ হয়ে যায় কান্নায়।
বেপরোয়া গতির একটি গেইটলক বাস ধাক্কা দেয় তাদের সিএনজি অটোরিকশায়। বিকট শব্দে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় আনন্দভ্রমণের মুহূর্ত। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় নুসরাত।
যে কিশোরী কিছুক্ষণ আগে জাফলংয়ের সৌন্দর্য দেখার আশা নিয়ে পথ চলছিল, সেই নুসরাতই পড়ে রইল সড়কের ওপর নিথর হয়ে।
নুসরাত ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দুলাইরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং এসএসসি পর্যায়ের একজন মাদ্রাসাছাত্র। পরিবারের সঙ্গে সিলেটে বেড়াতে এসেছিল সে। কিন্তু জাফলং পৌঁছানো হলো না। প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার আগে তাকে ফিরতে হলো পৃথিবীর মায়া ছেড়ে।
দুর্ঘটনায় নুসরাতের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাস ও সিএনজি অটোরিকশাটি সিলেট তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
একটি বাসের বেপরোয়া গতি শুধু একজন নুসরাতের জীবন কেড়ে নেয়নি—ভেঙে দিয়েছে একটি পরিবারের আশা, কেড়ে নিয়েছে বাবা-মায়ের আদরের সন্তানের হাসি।
আজ হয়তো জাফলংয়ের পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে আগের মতোই। ঝরনা বয়ে যাচ্ছে নিজের গতিতে। পর্যটকেরাও আসছেন, ছবি তুলছেন। শুধু নেই নুসরাত।
জাফলং দেখার যে আশা নিয়ে সিলেটে এসেছিল ১৫ বছরের কিশোরীটি, সেই আশা আজও অমিল।
নুসরাত আর কোনোদিন জাফলং দেখবে না।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বেপরোয়া গতির আর কতটি যান কেড়ে নেবে এমন আশা?