দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসন মাদক, জুয়া ও অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে। এর অংশ হিসেবে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে রাতভর ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোর আওতায় ১৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং মোট ১৬ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের আওতায় ছিল এয়ারপোর্ট, জালালাবাদ, হুমায়ূন রশীদ চত্বর, ক্বীনব্রিজ ও জালালপুর এলাকার বিভিন্ন স্থান। রাতে মাদক ও জুয়ার আসর বসিয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করার প্রবণতা ঠেকাতে প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিহাব সারার অভী।
অভিযান চলাকালীন আইন ভঙ্গ ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়।
এসব মামলায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত/মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ১৬ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
প্রশাসনের এ অভিযানে রাতের বেলায় মাদক ও জুয়ার আসর পরিচালনাকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাদক ও জুয়া শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সাথে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি, কিশোর ও তরুণদের বিপথগামিতা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও জড়িত। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা, সড়কসংলগ্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাতে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দক্ষিণ সুরমার এয়ারপোর্ট, হুমায়ূন রশীদ চত্বর, ক্বীনব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সিলেট নগরী ও আশপাশের মানুষের নিয়মিত চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এসব এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানকে স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
দক্ষিণ সুরমায় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার খবর আগে এসেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসেও দক্ষিণ সুরমায় মাদক ও অবৈধ তীর জুয়ার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সভা ও সমন্বয় কার্যক্রমও নিয়মিত হয়।
সুতরাং সম্প্রতি এ ঝটিকা অভিযানে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন ভঙ্গ করে কোথাও মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা জুয়ার আসর পরিচালনার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই মাদক ও জুয়ার সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের নিয়মিত ও আকস্মিক অভিযান অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি করাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পারে।
দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন জায়গায় সারারাত চলা এই অভিযানে ২৮টি মামলা, ১৭ জনকে কারাদণ্ড এবং ১৬ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড—মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রকাশ পায় বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।