লাল শাপলা বিলের ব্রিজ এলাকায় রাতের সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর; প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পর্যটনসমৃদ্ধ ডিবির হাওরের লাল শাপলা বিল এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাল শাপলা বিলের ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনার অবতারণা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অনেক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রি হাওর এলাকার মাসুক মিয়া (৪৫), হারুন মিয়া (৫৫), মানিক আহমদ (৪০), ফজলু মিয়া (৮০) ও রফিক আহমদ (৫০) আছেন। এছাড়া আহত আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগ ঘিরে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিবির হাওর এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগে কদমখাল গ্রামের রিপন মিয়া এবং কেন্দ্রি হাওর গ্রামের মোস্তোকিন আলীর ছেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
এতে শনিবার রাতে লাল শাপলা বিলের ব্রিজ এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষ শুরু হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতের ওই এলাকায় হঠাৎ সংঘর্ষ ঘটে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ
সংঘর্ষের খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসকরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর হওয়ার কারণে ৮ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে হাসপাতালে পাঠানো আহতদের মধ্যে কার কী ধরনের আঘাত রয়েছে এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় ডিবির হাওরসহ আশপাশের এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে সংঘর্ষর প্রকৃত কারণ কী এবং চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগের সাথে সংঘর্ষের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে। সংঘর্ষের পেছনে কোনো অপরাধচক্র বা অন্য কোনো বিরোধ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
থানায় অভিযোগ
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি ছুটিতে ছিলাম। বিস্তারিত জানি না। বিষয়টি সম্পর্কে খবর নিচ্ছি, কী হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছি।”
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
ডিবির হাওরের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর তদন্ত ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।