প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:২৩ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ৯, ২০২৬, ৯:৪১ এ.এম.

নাগেশ্বরীতে নদীভাঙনে স্বপ্নভঙ্গ হাজারও পরিবারের, নজর নেই কর্তৃপক্ষের

এম সাইফুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সঙ্কোষ, গঙ্গাধরসহ অন্যান্য নদীগুলোর পানি বেড়েছে, তবে এখন তা কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।

ভাঙনে নদীর তলদেশে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, কৃষিজমি, বাগান, সড়ক এবং অন্য নানা অবকাঠামোসহ কোটি কোটি টাকা মূল্যবান সম্পদ। ভাঙনের কারণে নিঃস্ব হয়ে নদীপাড়ের মানুষ কান্না করে চলেছে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদীর বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন ঘটেছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালটারী, কুটিরচর, এবং রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর দামালগ্রাম, ফান্দেরচর, ধাউরারকুটি, হাজিরমোড়, মোল্লারভিটা সহ বেশ কিছু এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে।

এছাড়া নুনখাওয়া এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদেও কয়েক পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে মানুষের শেষ জমিও বিলীন হচ্ছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ছে। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর ধাউরারকুটি হাজিরমোড় এলাকায় এক সপ্তাহের মধ্যে অন্ততঃ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে দুধকুমারের আগ্রাসনে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি সরালেও অনেকের জন্য শেষ রক্ষা হয়নি। ভাঙন কবলিতদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না নেয়ায় হাজারো পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।

এ অবস্থায় স্বপ্নের শেষ আশ্রয় হারিয়ে কেউ কেউ অন্যের জমিতে খুব কষ্টে বসবাস করছেন। ওই এলাকার আতাউর রহমান আপেল জানান, তাদের এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙনে এক রাতে ৩৫টি বসতভিটা, বাগান ও কৃষিজমি বিলীন হয়ে গেছে। আরও অনেক বাড়িঘর, নতুন স্লুইসগেট, সড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো হুমকির মুখে রয়েছে। মোল্লারভিটা এলাকার মজিরন বেগম জানান, তার স্বামী নেই।

নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে সড়ক। আর এই সড়কের পাশে একটি জায়গায় তার থাকার স্থান রয়েছে। নদী ভাঙার কারণে তার বসতভিটা কখন নদীর মধ্যে চলে যাবে, এই ভয়ে তিনি ঘুমাতে পারছেন না। আছমা বেগম জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। যদি বাড়ি না সরাতেন, তাহলে হয়তো তার বাড়িও নদীর মধ্যে চলে যেত।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকার শাহালম মিয়া জানান, তিনি একাধিকবার দুধকুমার নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এতে তার জমিজমা সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। এছাড়া সড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ অসংখ্য বসতভিটা ভাঙনের শিকার হতে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন না ঠেকালে অনেক মানুষ বাস্তুহারা হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বিভিন্ন নদীর ৩৮টি পয়েন্টে নদী ভাঙন চলছে। ভাঙনের শিকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বামনডাঙ্গা ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে।