সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের চিকনাগুল বাজারে সরকারি জমিতে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্থায়ী পশুর হাট এবং বিভিন্ন সেডঘর অপসারণ না করায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে মৌখিকভাবে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মছদ্দর আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওহিদুর রহমান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
“প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে নির্মিত সেডঘরের মালিকদের আগামী তিন দিনের মধ্যে মালিকানার বৈধ কাগজপত্র, দলিল-দস্তাবেজ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা থাকলে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় অপসারণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।”
জানা গেছে, ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাত্র সাত দিনের জন্য চিকনাগুল বাজারে অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনার লক্ষ্যে লিজ প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজারের সেড ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার মৌখিকভাবে বাজার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ ও নির্দেশনা দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
তবে অভিযান চলাকালে স্থানীয় সেড মালিক ও ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তারা সরকারি জমিতে নয়, বরং নিজেদের মালিকানাধীন জায়গায় নির্মিত সেডে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা প্রশাসনের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং বৈধ মালিকানার কাগজপত্র প্রদর্শনের সুযোগ চান।
স্থানীয়দের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন দিনের মধ্যে সকল মালিকানার কাগজপত্র, দলিল-দস্তাবেজ ও প্রাসঙ্গিক নথি নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা না করে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নথিপত্র যাচাইয়ের পর সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে, বৈধ মালিকানা প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি জমি সংরক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন তারা।