সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিলেট মহানগরে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ‘মধুফাঁদ’ চক্রের তৎপরতা। প্রেমের অভিনয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মারধর, মুক্তিপণ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ এখন নতুন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকায় এক যুবককে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মারধর এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নারীদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে পুরুষদের টার্গেট করে আসছিল।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে দুই যুবককে একই কৌশলে অপহরণ করে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এসব চক্র প্রথমে মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এরপর দেখা করার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অভিযোগ না করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হানি ট্র্যাপ চক্র নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন থাকুন। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে বা মোবাইলে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।