সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকাকে কোনোভাবেই মাদক ও অবৈধ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দারুল হাদিস ইমদাদুল উলুম লামনীগ্রাম মাদ্রাসায় মরহুম মাওলানা আব্দুল জব্বারের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক ও চোরাচালান দমনে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিজিবিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পর অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সতর্কবার্তা দেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পাথর কোয়ারি চালুর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আলেম-উলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মরহুম মাওলানা আব্দুল জব্বারের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।