প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১, ২০২৬, ৩:০৩ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ৩০, ২০২৬, ৫:১২ পি.এম.

বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলায় ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর ধর্ষণের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল মমিন (৪১) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৫ সালে রাণীশংকৈলে সংঘটিত ওই ধর্ষণের ঘটনায় আব্দুল মমিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক আলী মনসুর। রায়ে, আসামির জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড ও প্রদান করা হয়েছে। আব্দুল মমিন রাণীশংকৈলের ভাংবাড়ী এলাকার মৃত জালাল বৈরাগী অথবা প্রামানিকের পুত্র।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। এছাড়া, প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ  দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলায় ভাংবাড়ী এলাকায় ১৪ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী নিজ বাড়িতে একা থাকাকালীন ধর্ষণের সম্মুখীন হন, সেই সময় তার মা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং এ ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলা সংক্রান্ত অপর আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস করেছেন। এই রায় দেখে সন্তুষ্ট ভিকটিমের পরিবার এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল ইসলাম বলেছেন, আজকের রায় আমাদের সমাজে ইতিবাচক ফলাফল আনবে এবং অপরাধীদের এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে নিরুৎসাহিত করবে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এই কারণে যে, ভিকটিমের মা আদালতের দ্বারে ঘুরে ঘুরে বিচার পেয়েছেন।