রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
ভারত থেকে পুশইনের উদ্বেগে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত অঞ্চলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত জুড়ে নিয়মিত কঠোর টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছায় পাহারায় অংশ নিচ্ছে।
এই যৌথ প্রচেষ্টা অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকাতে বিজিবি এবং স্থানীয়দের মধ্যে সমন্বয়ের ফলে ব্যাপক আলোচনা উত্থাপন করেছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই সীমান্তের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করার সময় দেখা যায়, বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠি হাতে বিভিন্ন মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে সীমান্ত পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে পুশইনের খবর আলিশান হওয়ার পর সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে চিন্তা বেড়েছে। এই মধ্যে শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার পর রত্নাই সীমান্তে বিএসএফ আচমকা লাইট নিভিয়ে দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছায় বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা করে পাহারায় নামেন।
রত্নাই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, শনিবার রাতের ঘটনার পর থেকে তারা গভীর উদ্বেগে আছেন। সীমান্তের মাধ্যমে যেন কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তারা সতর্ক আছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিজিবির পাশে থেকে এভাবে পাহারা দেওয়ার কথা জানান তারা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত নজরদারি চলছে। কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি নজরে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানাতে এলাকাবাসীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে বিজিবির প্রচলিত টহল এবং নজরদারি অব্যাহত আছে এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ অথবা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, ‘বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবেলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বদা কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।’

