আখতারুজ্জামান মিলন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে ১২টায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১০ জুন)। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরপিএমপি’র পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এ বৈঠকে আরও বড় পদে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) জনাব তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) জনাব মোহঃ হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জনাব মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) জনাব সনাতন চক্রবর্তী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মো. আবদুর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ স্থানীয় থানার অফিসার্স ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যগণ।
মে-২০২৬ মাসে আরপিএমপিতে মোট ১৪৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১টি মাদক মামলা, ১টি অস্ত্র আইনের মামলা, ৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, ২টি ধর্ষণের মামলা, ১২টি চুরির মামলা এবং অন্যান্য ৩৫টি মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানের আওতায় ৯২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ৭.৯৪৫ কেজি গাঁজা, ১,২৪৯ পিস ইয়াবা, ৩.২ গ্রাম হেরোইন, ৩০ পিস ট্যাপেন্ডল, ৬ বোতল ফেন্সিডিল, ৩০.৭৫০ লিটার চোলাই মদ এবং ২৫ পিস অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মোট আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৫২৫ টাকা।
সভায় পুলিশ কমিশনার মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য গোয়েন্দা বিভাগ, থানার কার্যালয়, ফাঁড়ি এবং আরপিএমপির সকল ইউনিটের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করতে হবে, এবং মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযানের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করে টিমভিত্তিক কৌশল প্রয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, সমন্বিত ও দক্ষ অভিযানের মাধ্যমে সফলতার ঝুঁকি কমানো যাবে। জনগণের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় করতে সকল স্তরের কর্মকর্তাদের মানুষের সঙ্গে মানবিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ করতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পুলিশ সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, শিষ্টাচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেন তিনি এবং বলেন, আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলা নিয়ে কোনও ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই এবং এসব মামলা সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে।
চুরি এবং চোরাই পণ্য কেনাবেচা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সকল ভাঙারি দোকানে অবশ্যই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা নিশ্চিত করতে হবে। কোন ভাঙারি ব্যবসায়ী যদি চোরাই পণ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম যেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিচালিত না হয়, সে দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোয়েন্দা নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, ছাত্রাবাস, মেস এবং আবাসিক এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। যেকোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সভায় মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশ কমিশনার উল্লেখ করেন, মানুষের মধ্যে দুই ধরনের প্রবৃত্তি বিদ্যমান, এক দিকে পশুত্ব এবং অন্য দিকে মনুষ্যত্ব। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে পশুত্ব পরিহার করে মানবিকতা, সহানুভূতি এবং মনুষ্যত্বের চর্চার মাধ্যমে জনগণের সেবা প্রদান করা অবশ্যক। জনগণের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নৈতিকতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, আরপিএমপির প্রতিটি ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ, শৃঙ্খলা, কার্যকৌশল ও সার্বিক উন্নতির জন্য দায়ী ইউনিট প্রধান। ইউনিট প্রধানদেরকে তাদের সদস্যদের কার্যকরভাবে তদারকি, দিকনির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ করা নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ কমিশনার অপরাধ প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান উন্নত করার জন্য সব ইউনিটকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান। তিনি সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিক অন্তকালর নির্দেশনা দেন।

