রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের মাধ্যমে ১১ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবাহিত করার চেষ্টা রোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৬ জুন) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বার্তা প্রকাশ করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
বিজিবির সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন রাতের দিকে আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এর নিকটে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর জানার পর বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের চিহ্নিত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশ আটকায়।
আটক হওয়া মানুষের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছে।
প্রাথমিক তদন্তের সময়ে ওই মানুষগুলো জানান, তারা পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বাস করতেন। ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে এবং একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখে, যেখানে আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনের উপস্থিতি ছিল। পরে, তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়, যেখানে তারা একদিন কাটায়। পরবর্তীতে ৬ জুন রাতের দিকে সীমান্তের দিকে পাঠানো হলে বাংলাদেশের দিকে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন(৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান মন্তব্য করেছেন, সীমান্ত অঞ্চলে সর্বাধিক সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পুশইন রোধ করার জন্য গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।

