মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বাসিন্দারা ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। এর পরে ক্ষিপ্ত জনতা অভিযোগকৃত বালু ব্যবসায়ীদের একটি টোলঘর তছনছ করে দেয়।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকায় এই কর্মসূচি সংঘটিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের banner নিয়ে এই মানববন্ধনে নদী রক্ষা ও পরিবেশ নিরাপত্তা সম্পর্কে বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ। এছাড়া বক্তব্য দেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি নিহারিকা শারমিন দীপি, কার্যকরী সদস্য মো. শাহজালাল, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, খন্দকার বদরুল ইসলাম রাঞ্জু, আশিক ইকবাল ইশাত, রফিকুল ইসলাম রতন এবং আকতারা লিপি।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট থেকে কাচকোল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদীর ডান তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি স্থায়ী বাঁধের নিকটবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ও আশেপাশের বসবাসরত গ্রামগুলোও বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে।
তারা আরও জানান, বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় মানুষ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনের প্রধান অতিথি অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, যদি অবৈধ বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে সরকারের খরচ করা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধ মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হবে। যদি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আশেপাশের কেই বেশ কিছু গ্রাম নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। তাই জনগণের স্বার্থে ও নদী রক্ষার জন্য প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগিত বালু ব্যবসায়ীদের টোলঘরে হামলা চালিয়ে সেটিকে ভেঙে ফেলে।

