মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সোমবার (২৫ মে ২০২৬ খ্রি.) পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে কোরবানির পশুর প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে চলছে। জেলার খামারিরা এখন গরু-ছাগল লালন-পালনে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত। এবছর এই জেলায় কোরবানির জন্য ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপ এবং বিভিন্ন রোগের হাত থেকে পশুদের রক্ষার জন্য জেলার সব পশুর হাটে Veterinary Medical Team কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, আসন্ন ঈদের খোঁজে স্থানীয় খামারে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরু প্রাকৃতিক খাবারে লালিত হচ্ছে। খামারিরা পশুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, ভুট্টা, খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড় ব্যবহার করছেন। সেই সঙ্গে পশুর সুস্থতার জন্য নিয়মিত গোসল এবং পরিষ্কার পরিসরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহারের বিরুদ্ধে মাঠে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করছে। খামারিদের সচেতন রাখার পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে।
বর্তমান বছরে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার জন্য সরবরাহ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে করে জেলার খামারিরা আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
এই ঈদের উপলক্ষে জেলায় ১৫টি স্থায়ী এবং ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন হয়েছে। এখানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ Veterinary Medical Team সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। অসুস্থ অথবা রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং খামারিদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য এই টিম কাজ করছে।
যাত্রাপুর পশুর হাটে গরু বিক্রির জন্য আসা খামারি আজিজার মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি আগেই দেখেছেন যে হাটে বেচাকেনা বাড়ছে। ক্রেতারা পশু দেখে দরদাম করছেন এবং অনেকেই সরাসরি খামার থেকে কিনছেন। হাটে Veterinary Team থাকায় খামারিরা অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম বলেছেন, তিনি সন্তানের মতো যত্ন করে গরু লালন করেছেন এবং কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করেননি। কেবল প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই গরুকে বড় করেছেন। যদি পশুর কোনো সমস্যা হয়, তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, পশুদের সুস্থ এবং নিরাপদ রাখতে জেলার প্রতিটি হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। দল খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করছে এবং পশুর যেকোনো রোগে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

