আখতারুজ্জামান মিলন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের মিঠাপুকুরে মোছাঃ ছমিনা খাতুন (৫২) কর্তৃক দায়ের করা এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদীর নাতনী যিনি স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্রী।
বিভিন্ন সময় আসামি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে এবং উত্যক্ত করে আসছিল। গত (২২ অক্টোবর) ২০২৫ সালে ভিকটিম মিঠাপুকুর থানার গড়েরহাটে যাওয়ার সময় আসামি রাকিব মিয়া ও তার সহযোগীরা মিলে ভিকটিমকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং আসামির বাড়িতে নিয়ে যায়।
বাদী যখন আসামির বাড়িতে গিয়ে ভিকটিমের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান, তখন তারা জানায় যে, ভিকটিম আসামিদের বাড়িতে রয়েছে। বাদী যখন তার নাতনী ভিকটিমকে ফিরিয়ে চাইতে যায় তখন আসামি এবং তার সহযোগী আসামিরা বাদীকে বিভিন্ন ধরনের ভয় ও হুমকি প্রদান করে এবং বাদীকে আসামির বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনার পর ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ভিকটিমের নানি বাদী হয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারার পাশাপাশি পেনাল কোডের ৫০৬ ধারায় অপহরণ ও হুমকি প্রদানের মামলা দায়ের করেন। মামলাটির সংখ্যা ৩৮।
ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই আসামিরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পলাতক ছিল। ঘটনার গুরুত্ব সচেতন করে আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে র্যাব সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং ভিকটিমের উদ্ধারে ও আসামিদের গ্রেফতারে সক্রিয় হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিএসসি, র্যাব-১, গাজীপুরের একটি যৌথ অভিযানিক দল (১৭ মে) বিকাল ০৫:৩৫ ঘটিকার সময় গাজীপুর জেলার বাসন থানার বাসন সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অপহরণ মামলার প্রধান আসামী মোঃ রাকিব মিয়া (১৮), পিতা- মোঃ মনছুর আলী, বাসা- কিসমত জালাল (গড়), থানার মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুরকে আটক করে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ভিকটিম ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। উপরন্তু, র্যাবের সদস্যরা অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দৃঢ়তার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং চলমান এই অভিযানে অব্যাহত থাকবে।

