Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

খাস জমি নামজারির অভিযোগে কুড়িগ্রাম এসিল্যান্ডকে ঘিরে বিতর্ক

খাস জমি নামজারির অভিযোগে কুড়িগ্রাম এসিল্যান্ডকে ঘিরে বিতর্ক

মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্পের খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার প্রায় ৭২ একর সরকারি খাস জমি, যেখানে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেখানেই একাংশ জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে। এতে শতাধিক গৃহহীন পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে এ এলাকায় ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে আরও পরিবারকে ঘর ও জমি প্রদান করা হলেও সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এস.এ রেকর্ড অনুযায়ী জমি ব্যবস্থাপনা না করে আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, সরকার আমাদের এখানে বসবাসের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু এখন সেই জমি অন্যদের নামে নামজারি হচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি।

ফারুক হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে নামজারি করা হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।

অন্যদিকে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, আর.এস রেকর্ড গেজেট হওয়ায় এস.এ অনুযায়ী কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম বলেন, আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে এবং সরকারি স্বার্থ থাকলে তা স্থগিত রাখা হয়। তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

আইনজীবীরা বলছেন, সরকারি খাস জমি নিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নামজারি করা হলে তা প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে গুচ্ছগ্রামের ভূমিহীন পরিবারগুলো নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

Exit mobile version