আশরাফুল আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর ধরলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের গঙ্গাধর নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি ও বালারহাট এলাকা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে গ্রাম দুটি।
স্থানীয়রা জানান, গঙ্গাধর নদীর তীব্র ভাঙনে ফসলি জমি, বসতভিটা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। চৌদ্দঘুড়ি বিজিবি ফাঁড়ি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামে নদীভাঙন দারিদ্র্যের বড় কারণ। ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ফুলকুমার, গঙ্গাধর ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ভাঙনে প্রতিবছর হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
চৌদ্দঘুড়ি এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী ও রাসেল মিয়া বলেন, নদী প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। ময়েজ উদ্দিন জানান, নদীগর্ভে চাষের জমি বিলীন হয়ে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন তিনি।
বালারহাট গ্রামের আজিজুর রহমান ও আজিবুর রহমান বলেন, বারবার আশ্বাস মিললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
নারায়নপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি Shafiqul Islam Bebu বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী Rakibul Hasan জানান, ভাঙনরোধে বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

