Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

জ্বালানি সংকটে অচল সোনাহাট স্থলবন্দর, বিপাকে শ্রমিক-ব্যবসায়ী

জ্বালানি সংকটে অচল সোনাহাট স্থলবন্দর, বিপাকে শ্রমিক-ব্যবসায়ী

মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এতে আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক পর্যন্ত সবাই পড়েছেন চরম সংকটে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার দিনমজুর শ্রমিক, যারা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বন্দরের বিভিন্ন পাথর ডিপোতে ভাঙা পাথরের স্তুপ জমে থাকলেও পরিবহন সংকটের কারণে সেগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার মধ্যে সীমিত পরিসরে কিছু পাথর ভাঙার কাজ চললেও জ্বালানির অভাবে লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। অধিকাংশ মেশিন অলস পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে বন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সংকটে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এবং খুচরা বাজারেও সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

ট্রাক মালিক ও চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানির অভাবে অনেক ট্রাক দিনের পর দিন অলস পড়ে আছে। ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিয়মিত দৃশ্য।

পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, “নিয়মিত কাজ না থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন একাধিক ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন তেল সংকটে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট জহুরুল ইসলাম জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৫টিতে। ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে পারছে না।

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের চাহিদা থাকলেও পরিবহন সংকটে বিক্রি কমে গেছে। মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতিদিন ৩৫-৪০টি ট্রাক লোড হতো, এখন তা কমে ১০-১২টিতে নেমে এসেছে। ফলে ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই স্থলবন্দরে। সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন জানান, চাহিদা অনুযায়ী ট্রাক না আসায় ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে থাকছে। তিনি ভূরুঙ্গামারীর একমাত্র পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, বন্দরে এলসি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করছে। যদিও অভ্যন্তরীণ বাজারে কিছুটা বেচাকেনা কমেছে, তবে এখনো রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ স্থলবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Exit mobile version