রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঝলঝলি বসন্তপুর গ্রামের এক কৃষকের উদ্যোগে আঙুর চাষ এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাড়ির সরু পথজুড়ে বাঁশের মাচায় ঝুলন্ত আঙুরের থোকা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন প্রবাসফেরত কৃষক আবুল কালাম আজাদ। সৌদি আরবে কাজ করার সময় বিভিন্ন ফলের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে প্রথমে সবজি চাষ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে আঙুর চাষে মনোযোগ দেন।
প্রথমে ৭০টি গাছ দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ১২০০টি আঙুর গাছ রয়েছে। চার বিঘা জমির পাশাপাশি বাড়ির পথ ও পুকুরপাড়েও মাচা তৈরি করে আঙুর চাষ করছেন তিনি। এর পাশাপাশি বাগানে রয়েছে বেদানা, লটকন, জামরুল, ড্রাগন ফল, প্যাশন ফল, মাল্টা, আপেল, নাশপাতিসহ প্রায় ৩০ ধরনের ফলজ গাছ এবং চুইঝাল ও গোলমরিচের মতো মসলাজাতীয় উদ্ভিদ।
আবুল কালাম জানান, ইউটিউব দেখে তিনি আঙুর চাষ শিখেছেন। লতানো গাছ হওয়ায় মাচা পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ফেব্রুয়ারিতে ছাঁটাই করার পর মার্চে ফুল আসে এবং জুন-জুলাইয়ে ফল সংগ্রহ করা যায়।
এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। তবে চলতি মৌসুমে ৯০ থেকে ১০০ মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এতে প্রথম বছরেই বিনিয়োগ উঠে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার পাইকাররাও ইতোমধ্যে তার বাগানের আঙুর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা নিয়ে আঙুর চাষ শুরু করার পরিকল্পনাও করছেন।
দর্শনার্থীরা জানান, বাগানের আঙুর দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও মিষ্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে অনেকেই এখানে আসছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, আঙুর চাষের জন্য দোআশ ও জৈব সারসমৃদ্ধ মাটি উপযোগী। আবুল কালামের বাগানের ফলন আশাব্যঞ্জক। আঙুরের গুণগত মান যাচাই করে সফল হলে অন্য কৃষকদের মধ্যেও এই চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

