মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:
বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই কুড়িগ্রামের নদীপাড়ের মানুষ আবারও ভাঙনের শঙ্কায় দিন গুনছেন। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীর তীরজুড়ে এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার চিত্র।
গত বর্ষায় নদীভাঙনে প্রায় দুই হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। চলতি বছরও কয়েক হাজার পরিবার একই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অনেকেই আগাম সতর্কতায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, গত বছরের ভাঙনের ক্ষত এখনো স্পষ্ট। নদীপাড়জুড়ে ভাঙনের চিহ্ন, পরিত্যক্ত ভিটা আর স্থানান্তরিত বসতঘরের দৃশ্য যেন প্রতি বছরের পুনরাবৃত্তির সাক্ষী। জেলার প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অরক্ষিত নদীতীরজুড়ে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে তড়িঘড়ি কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। ফলে একই দুর্ভোগ বারবার ফিরে আসে।
বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়া ও আফসার আলী জানান, গত কয়েক বছরে তাদের গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও শতাধিক পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটার পাশাপাশি ফসলি জমি, যাত্রাপুরহাট এবং কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদী ভাঙনপ্রবণ। এসব নদীর দুই তীরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৩০৮ কিলোমিটারই অরক্ষিত।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আসন্ন বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী ভাঙনরোধে এক লাখ জিওব্যাগ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেগুলো দ্রুত ব্যবহার করা হবে।
এদিকে নদীপাড়ের মানুষ বলছেন, অস্থায়ী নয়—স্থায়ী সমাধানই এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আসন্ন বর্ষায় নতুন করে হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং বিলীন হবে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

