প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৪:১২ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১:৪৮ এ.এম.

গঙ্গাচড়ায় তিস্তা মাত্র ৬০ মিটার দূরে, চোখের সামনে বিলীনের শঙ্কায় বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আশ্বাসে কাটছে দিন, ভাঙনরোধে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ—আতঙ্কে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী।

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন এগিয়ে আসছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নৌহালী ইউনিয়নের চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে। নদী থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র প্রায় ৬০ মিটার। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে বিদ্যালয়টি নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিস্তার পাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি তিস্তার গর্ভে চলে যেতে পারে।

নৌহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুলপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর করাল গ্রাসে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ভাঙন আতঙ্কে অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কয়েক দফা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে ভাঙন থামার বদলে আরও তীব্র হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের জনপদ তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়টি এখন নদীর একেবারে কাছে চলে এসেছে। দ্রুত ভাঙনরোধ করা না হলে বিদ্যালয়টি হারানোর পাশাপাশি শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হবে এবং হুমকির মুখে পড়বে বিস্তীর্ণ জনপদ।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, “স্কুলটি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। শুধু আশ্বাস দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি চর বাগডহরা এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে—বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এদিকে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় দিন দিন বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ। আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়, বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।