প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৭:১৩ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১২:২১ পি.এম.

বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মিঠাপুকুর উপজেলায়

আহসান হাবিব, স্টাফ রিপোটার:

তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে পড়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মানুষরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুতের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরপরই চলে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন শিল্পের কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের ভোগান্তি বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান, আইপিএস ও অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কম্পিউটার, ফটোকপি, অনলাইন সেবা, ওয়েল্ডিং ও অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায় তাদের সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী যথেষ্ট আলো ও গরমের কারণে পড়াশোনা করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এর আগেও মিঠাপুকুরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পরীক্ষার্থীদের মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ‌্যমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তখন গ্রিড লাইনে সমস্যা বলেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লোডশেডিং-এর সঠিক সূচি জানানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা জরুরি। পাশাপাশি যদি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে, তাহলে দ্রুত সমস্যা খুঁজে বের করে পুনরায় সরবরাহ চালু করার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রশ্ন—বিদ্যুতের বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও কেন দিনের পর দিন এমন সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে?

মিঠাপুকুরবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।