প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ৯:৫২ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ৬, ২০২৬, ৫:৪৯ পি.এম.

নাগেশ্বরীতে বুটিক প্রশিক্ষণে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নারীরা

এম সাইফুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

হাতে প্লাস্টিকের ফ্রেমে বাঁধা শাড়ি ও থ্রি পিচ। কিছু নারীরা শাড়িতে সুই ও সুতায় বুটিক করছে, কেউ কাপড়ের নকশা করছেন, আবার কেউ সেলাই মেশিনে কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যকার এই কাজের দৃশ্য যেনো চোখে পড়ার মতো। সবার চোখে মুখে স্বাবলম্বী হওয়ার আশা।

সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে দুই মুঠো ডাল ভাত যোগানো আর সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে সুশিক্ষিত করে দেশের উন্নতির প্রত্যয় সকলের। এ দৃশ্য কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলা এলাকায়। এ উপজেলার নারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে তাঁদেরকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টায় রয়েছেন নারী উদ্যোক্তা সিলেটি কন্যা নাদিরা আবুল কোরেশী।

শৈশব থেকেই আঁকাআঁকি ও নকশা করার শখ ছিলো তাঁর। এই শখের কাজ দিয়েই কৈশোরে তিনবার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে তিনি স্বামী ও সন্তান নিয়ে আমেরিকায় সুখে আছেন। কর্মজীবনে সেখানেই আইটি ফার্মে কাজ করছেন। তবে দেশপ্রেম আর স্বদেশের মানুষের ভালোবাসা তাঁকে দেশ ছাড়া হতে দেয়নি। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাঁদের জীবনের মান উন্নয়নে কাজ করছেন এই অদম্য নারী উদ্যোক্তা।

এমন লক্ষ্য নিয়ে নাগেশ^রীর জামতলা এলাকায় আবুল হোসেন কোরেশী প্রকল্প-২ শুরু করেছেন। এই প্রকল্পে এ অঞ্চলের নারীদের প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে তাঁদের পরিবার ও এলাকা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। তাই এসব নারীদের কাপড় বুনা, কাপড়ে নকশা, বুটিক তৈরি ও শাড়ি-থ্রি পিস তৈরিতে জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে নানা বিষয়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি পোশাক দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবুল হোসেন কোরেশী প্রকল্পে ৯০ জন নারীরা তাঁদের সৃজনশীলতা মিশিয়ে শাড়ি ও থ্রি পিচে নানা ধরনের নকশা বুনছেন। এছাড়া নারীদের হাতে তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে শাটী নামে একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন নাদিরা। এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশের বাইরে থেকেও উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসব পণ্য থেকে অর্জিত অর্থও নারীদের ও তাঁদের সন্তানদের ফিরে দেন নাদিরা কোরেশী। কেবল তাই নয়, সকল পরিবারের মেয়েদের স্কুল-কলেজে অভিভূত করার জন্য নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে উৎসাহিত করছেন নাদিরা। এমনকী তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কম্পিউটার ও আইটি দক্ষতা দিয়ে তাঁদের সমাজে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করছেন।

আবুল হোসেন কোরেশী প্রকল্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণরত অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাওয়া খাতুন বলেন, তাঁর পরিবার অসচ্ছল। তাই তিনি এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে চান পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে। পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে চান। জামতলা এলাকার সিরাজাম মুনিরা মিষ্টি জানান, তাঁর স্বামী মারুফুর রহমান বেকার। কাজের অভাবে তাঁদের সংসারে অভাব লেগেই থাকে। তাই তিনি এখানে শাড়ি থ্রি-পিচের বুটিকের কাজ করে সংসারে সুখ ফেরাতে চান। তাঁরা সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান।

নারী উদ্যোক্তা নাদিরা আবুল কোরেশী বলেন, দেশের গ্রামীণ এলাকার অগ্রসর না হওয়া নারীদেরকে জনশক্তিতে পরিণত করতে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করতে চাই। যাতে নারীরা আয় করতে পারে এবং সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, সেইসাথে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।