নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও গুরুতর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ স্ত্রীর ওপর ধর্ষন ও স্বামীকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ, অপর পক্ষ মিথ্যা অপবাদ ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্নের চেষ্টা দাবি করে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে নলডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত একটি লিখিত অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, নলডাঙ্গা গাংপাড়া এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৩৫) একই এলাকার মৃত আকবর আলী সরকারের ছেলে মো. বাবর আলী বাচ্চু (৪৫)-এর বিরুদ্ধে একটি লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগে রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী মোছাঃ রাখি খাতুনের সাথে তার পারিবারিক বাগবিতণ্ডা হলে বিবাদী বাবর আলী বাচ্চু তার স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিবাদী বাচ্চু দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে রবিউলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তিনি সৌমিক, সৌকত ও রিয়াদের নাম উল্লেখ করেন।
এদিকে এই অভিযোগের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে আজ ০৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে নলডাঙ্গা থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মো. বাবর আলী বাচ্চু।
তিনি মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মানহানি ও হুমকির অভিযোগ এনে উল্লেখ করেন, রবিউল ইসলাম গত কয়েকদিন ধরে এলাকাভেদে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছেন। রবিউল অপপ্রচার করছেন যে বাবর আলী বাচ্চু একজন চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত।
বাবর আলী বাচ্চু তার অভিযোগে দাবি করেন, এই সম্পূর্ণ বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। আজ ৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকায়, নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদ মাঠের পাশে এই মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর কারণ জানতে চাইলে, রবিউল ইসলাম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণ নাশের হুমকি দেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাবর আলী বাচ্চু তার দায়েরকৃত পাল্টা অভিযোগে, রবিউল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ রাখি খাতুনকে, নিজের পক্ষে প্রধান সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া জনি ও সাগর নামের আরও দুজন এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন।
দুইটি অভিযোগ পত্রের বিবরণী থেকেই জানা যায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি অবগত করে, মীমাংসার চেষ্টার কারণে, থানায় অভিযোগ দায়ের করতে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নলডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দুটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।