মোঃ সুজন আহম্মেদ, বিশেষ প্রতিনিধি :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে পূর্ববিরোধের ফলস্বরূপ ধারালো অস্ত্র সহ সন্ত্রাশীদের হামলায় জামায়াতের এক নেতার হত্যার চেষ্টা দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) রাত প্রায় ৮টা নাগাদ উপজেলার দাশমরিচ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
যিনি আহত হয়েছেন, তাঁর নাম জিল্লুর রহমান (৫০)। তিনি দাশমরিচ গ্রামের অধিবাসী, খানমরিচ ইউনিয়নে জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এবং পেশায় শিক্ষক। অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুর রহমান (২৫) ও স্বপন সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত, তাছাড়া তারা জানান, আব্দুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ সদস্য হিসাবে পরিচিত। স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আবুল কালাম জানান, সকালে জিল্লুর রহমানকে লক্ষ্য করে আব্দুর রহমান কটূক্তি করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময় জিল্লুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত একজন আব্দুর রহমানকে সজোরে চড় মারেন। এর পর দুপুরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল জিল্লুর রহমানের বাড়িতে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁকে না পেয়ে তাঁর মায়ের ওপর আক্রমণ চালায়। পরে তারা জিল্লুর রহমানকে খুঁজতে তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে জিল্লুর রহমানকে রাস্তায় পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গুড়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, তাঁকে আইসিইউয়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
এই ঘটনার পর পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আলী আজগর, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অঙ্গনে প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, “আমার নেতা কেন আঘাতপ্রাপ্ত, প্রশাসনের কাছে উত্তর চাই।”
অন্যদিকে, খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বিএনপি বা ছাত্রদলের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্কিত নন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একটি স্থানীয় জামায়াত সদস্যকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের উদ্ভব হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম এ বিষয়ে জানান, এখনও পর্যন্ত আহতের পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। রাত ২টা পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

