আব্দুল আজিজ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধ:
পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠানের জন্য নওগাঁর পশুর হাটগুলো বর্তমানে প্রাণবন্ত। বিশেষ করে রবিবার ধামইরহাট পশুর হাটে প্রচুর মানুষের ভিড় এবং গবাদি পশুর ঘোষণার পরিমাণ লক্ষ্য করা গেছে।
তবে পশুর অভাব না থাকলেও, তাদের দাম নিয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত।
হাটে গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে আসা স্থানীয় খামারী ও কৃষকদের মুখাবয়বেই চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। তারা বলছেন, খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে গরু পালন করতে যে খরচ হয়েছে, তার সঠিক মূল্য তারা হাটে পাচ্ছেন না।ধামইরহাট হাটে গরু বিক্রি করতে আসা এক কৃষক মন্তব্য করেন,”বছরের পর বছর চেষ্টা করে গরুকে বড় করেছি। কিন্তু এখন হাটে গিয়ে পাইকারদের যে দাম শুনছি, তাতে আমার আসল খরচও উঠবে না। লোকসানে তো আমি গরু বিক্রি করতে চাই না।”
বিক্রেতাদের ক্ষোভ, বাজারে গরুর কিছুটা বেশি আসা থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগী বা পাইকাররা সস্তা দামে বিক্রির জন্য জোটবদ্ধ হয়ে বসে আছেন।
“পশুর দাম সাধ্যের বাইরে”অন্য দিকে, কুরবানি দিতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ একেবারে বিপরীত। তাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এই বছর গরু এবং ছাগলের মূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পছন্দের পশুটি কেনা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
হাটে গরু কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, “বাজারে গরুর অভাব নেই, মাঠে প্রচুর গরু রয়েছে। তবে দামের তুলনা করলে মনে হচ্ছে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। একটি মাঝারি সাইজের গরুর জন্য যে দাম চাওয়া হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। শুধু গরু নয়, ছাগলগুলোর দামও এই বার বেশি।”
গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় আজ রবিবার হাটে পশুর সরবরাহ ছিল অন্যতম বেশি। মাঝারি এবং ছোট সাইজের গরুর জন্য সর্বাধিক চাহিদা থাকলেও, সেগুলোর দামও বেশি।
হাট কর্তৃপক্ষ জানায়, জাল টাকার শনাক্তকরণ ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাজারের সাথে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদের সময় এখনও কিছুদিন বাকি থাকার কারণে ক্রেতারা বর্তমানে বাজার যাচাই করছেন। তবে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এবারের হাটে পশু কেনাবেচায় প্রভাব পড়ছে। শেষ মুহূর্তের আমদানি আরও বৃদ্ধির এবং দাম কিছুটা নির্ধারণ হলে বিক্রয় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

