হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ স্বজন, হাতে চিকিৎসার কাগজ—কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ বা পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য নেই। অর্থের অভাবে এমন অসহায়ত্ব যেন কোনো রোগীর চিকিৎসার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই ভাবনা থেকেই শেরপুরে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন শেরপুর’।
দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী ‘মানবতার সেবায় দানবাক্স’। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (ঢাকা)-এর ইনকাম ট্যাক্স কনসালট্যান্ট ও বগুড়া ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম রাশেদ। দানবাক্সটির উদ্বোধন করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘ক্লিন শেরপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. ফয়সাল আহমেদ জোভান।
উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন—তরুণদের এমন চিন্তা ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। মানবতার সেবায় এই দানবাক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথি মো. জাহিদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, মানুষের সামান্য সহযোগিতাও কখনো কখনো একটি অসহায় পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের সবাইকে এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
‘ক্লিন শেরপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. ফয়সাল আহমেদ জোভান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক দরিদ্র রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিংবা ওষুধ কেনার অর্থ জোগাড় করতে পারেন না। সেই অসহায় মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে কেবল অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।
দানবাক্সের পাশে থাকা ব্যানারে লেখা রয়েছে—
“আপনার সামান্য দান, বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ। দুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।”
সভাপতির বক্তব্যে ডা. আমিরুল ইসলাম উদ্যোগটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ‘ক্লিন শেরপুর’-এর সদস্য, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হয়তো কারও কাছে দানবাক্সে ফেলা কয়েকটি টাকা খুবই সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য অর্থই কোনো অসহায় রোগীর জন্য হতে পারে প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার শেষ ভরসা—অথবা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নতুন আশার আলো।