প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৪:১১ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১:৫১ পি.এম.

নওগাঁয় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও দামে হতাশ কৃষকরা: উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম

মো: আব্দুল আজিজ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

উত্তরের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় চলতি আউশ মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের পরিশ্রমে ধানের ফলন ভালো হলেও তাদের মুখে হাসি নেই। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় উৎপাদিত সোনালী ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে কৃষকদের। উল্টো বিঘাপ্রতি লোকসান গুনতে হওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আউশ চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু স্থানীয় হাট-বাজার ও মোকামগুলোতে ধানের দাম পতনের ধস নেমেছে। বর্তমানে বাজারগুলোতে শুকনা ভালো জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় এবং আর্দ্রতা বেশি থাকা ভেজা ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার-কীটনাশক প্রয়োগ, নিড়ানি, কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমান বাজারদরে সেই ধান বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। এতে বিঘাপ্রতি কৃষকদের ১ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম মাঠের কৃষক আব্দুল আজিজ আক্ষেপ করে বলেন, “মাঠে সোনার ফসল ফললেও বাজারে দাম নেই। ১০ হাজার টাকা খরচ করে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ হাজার টাকায়। সার ও শ্রমিকের যে দাম, তাতে এই দামে ধান বিক্রি করলে সংসার চালানো তো দূরের কথা, ঋণের বোঝা টানতে হবে।”

মোল্লাকুড়ির মাঠের কৃষক আবু সাইদ সজল বলেন, “বোরো ও আমন মৌসুমে সরকার যেভাবে ধান সংগ্রহ করে, আউশ মৌসুমে সেই সরকারি ধান ক্রয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এই সুযোগে ফড়িয়া ও ব্যাপারিরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে। অথচ বাজারে চালের দাম চড়া। ধানের দাম কমলেও চালের দাম কমে না।”

ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীদের দাবি, মোকামে চালের বেচাকেনা কম থাকায় এবং বড় বড় মিল মালিক বা কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত ধান না কেনায় বাজারে এই দরপতন ঘটেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আউশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে এবং তাদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে আউশ ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকরা।