প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৫:৪৯ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৯:০১ পি.এম.

ভাঙ্গুড়ায় গভীর রাতে পৌর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাজমুল হুদা কালু আটক

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাজমুল হুদা কালুকে গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

নাজমুল হুদা কালু ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দলটির একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌরসভার কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেলের হিসাবরক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব এবং ওই সময়ে তার সম্পদ অর্জন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নাজমুল হুদা কালু বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বিভিন্ন জায়গা-জমি ক্রয় এবং সম্পদ অন্যের নামে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ, জমিজমা এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এসব সম্পদ অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে নাজমুল হুদা কালুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “চলমান অভিযানের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো কোনো মামলা রুজু হয়নি। পরবর্তীতে মামলা রুজু হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হবে।”

তবে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার সম্ভাব্য ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ডিবি কর্মকর্তা।

নাজমুল হুদা কালুর বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদ অর্জন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, নাকি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।