বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও চকলোকমান উল্কা সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি’র ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় মনিরুল ইসলামের বড় ভাই মো. মাসুদ করিম কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট চকলোকমান উল্কা সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন উদ্বোধন করেন। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে মনিরুল ইসলাম মনির বিরোধ তৈরি হয় এবং তাকে টুর্নামেন্ট বন্ধ করতে বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তিনি টুর্নামেন্ট বন্ধ করেননি।
এর পরদিন ২২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ক্লাবের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার নামে মনিরুল ইসলামকে শাজাহানপুর থানার চকলোকমান এলাকার উল্কামাঠের পূর্ব পাশে ডাকা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এক সময় তারা দলবদ্ধ হয়ে মনিরুল ইসলামকে গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে একজনের নির্দেশে অপর একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথার ডান পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আরেকজন লোহার রড দিয়ে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা মনিরুল ইসলামকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করেন। এই সময়ে তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই মাসুদ করিম এগিয়ে এলে তাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় মানুষ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারী লোকেরা প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে আহত দুই ভাইকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাসুদ করিম প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও মনিরুল ইসলামকে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চকলোকমান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ধ্রুব, লিটন, দীপন ও আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে কিশোরদের একটি অংশও জড়িত বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের মতে, এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার এবং এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে চাওয়ার কারণে মনিরুল ইসলাম মনি ও তার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও লোকেরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ, এই সব কার্যকলাপ বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে মনিরুল ইসলাম মনি ও তার পরিবার ওই পক্ষের আক্রমণের শিকার হন। সর্বশেষ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে ডেকে নিয়ে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।