প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ৪:৪৯ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৭, ২০২৬, ২:০০ এ.এম.

মুসলিমাবাদে মাদকবিরোধী উদ্যোগে স্বস্তির দাবি এলাকাবাসীর

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জামালপুর পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় মাদক চক্রের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলেছে সাধারণ মানুষের। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আতঙ্কের পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জামালপুর মুসলিমাবাদ সমাজ কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকা থেকে চিহ্নিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারিদের উচ্ছেদ করার পর সেখানে এখন বিরাজ করছে শান্তি ও নিরাপত্তা।

জিম্মি ছিল জনজীবন পৌর’মহল্লার,ধ্বংসের মুখে তরুণ সমাজ সরেজমিনে মুসলিমাবাদ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অত্র এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন বোম্বল ও তার পরিবার এবং অপর মাদক কারবারি কোমল ও তার পরিবারের কাছে কার্যত জিম্মি ছিল সমাজ । তাদের মাদকের করালগ্রাসে এলাকার জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল।

এই চক্রের খপ্পরে পড়ে এলাকার শত শত তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছিল, যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছিল।।

মুসলিমাবাদ সমাজ কল্যাণ তরুণ সমিতির সভাপতি সেতু সরকার মাঠপর্যায়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন “কিছুদিন আগেও এই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সালেহা ও তার স্বামী কামাল মিয়া, এবং সালেহার বোন শাহিদা বেগম ও স্বামী মতিন মিয়া ২২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে তারা দ্রুত জামিনে বের হয়ে আসে এবং আবারও বুক ফুলিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে।”তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া এই মাদক কারবারিদের নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

তাদের এই মরণনেশার ব্যবসার কারণে এলাকার বহু পরিবার সবকিছু হারিয়ে আজ নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত।সেতু সরকার আরও বলেন, ভয়ংকর মাদকের থাবা থেকে মুসলিমাবাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করাই পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় রূপ নিয়েছিল। সে কারণেই সমাজ কল্যাণ সমিতি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়।

মাদক কারবারিদের এই উচ্ছেদের পর পুরো মুসলিমাবাদ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। এলাকার আপামর জনসাধারণের সাথে কথা বললে তারা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান,

“আমরা এলাকায় আর কোনো মাদক বা মাদক ব্যবসায়ী দেখতে চাই না।”

“আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের উচ্ছেদ করেছি।দীর্ঘদিন পর আমরা এখন শান্তিতে আছি, আমাদের এলাকায় এখন শান্তিতে শ্বাস নিতে পারছি।

এলাকাবাসীর দাবি, উচ্ছেদ হওয়া এই অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আবারও এলাকায় ফিরে এসে শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সমাজ কল্যাণ সমিতির এই সাহসী উদ্যোগকে জামালপুরের সুশীল সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে।