রাকিবুল হাসান শ্যামনগর,,(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসার খরচ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বৃদ্ধা মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে নথিভুক্ত করার প্রচেষ্টায় ছেলের ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মাকে মারধর করে দাঁত ভাঙার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আক্রান্ত বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম শ্যামনগর থানায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার বড় ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম এবং পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা দীর্ঘ সময় ধরে তার ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসার খরচ বহন না করে বরং তার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিজেদের পক্ষে লেখার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের চাপ ও মানসিক নির্যাতনও করা হচ্ছিল উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ জুন সকালে অভিযুক্তরা তাকে নিন্দা করতে শুরু করেন। পরে দুপুরের আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে তারা লাঠি নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে এবং পুনরায় বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধা মারধরের শিকার হন, ফলে তার মুখের একটি দাঁত ভেঙে যায়, এবং তার ঠোঁট ও নাকেও গুরুতর আঘাত লাগে।
এই সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার মেয়ে নাছিমা খাতুনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহত আনোয়ারা বেগম ও তার মেয়েকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে আক্রান্ত আনোয়ারা বেগম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হলে তা পরে প্রকাশ করা হবে।
এই বিষয়ে শ্যামনগর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।