মো: আব্দুল্লাহ শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের অপরাধী ‘দুলাভাই বাহিনী’ এর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গুলি বিনিময়ে বাহিনী প্রধানসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১ জন নিহত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ আশিকুল ইসলাম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ‘দুলাভাই বাহিনী’ এর সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের অন্ধকারে অবস্থান করছে। এর কারণে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।
অভিযানের সময়ে ডাকাতদের বহনকারী দুইটি নৌকা শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার জন্য সংকেত দেয়। সংকেত অমান্য করে নৌকায় থাকা ডাকাতরা কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও গুলি ছুঁড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি-যুদ্ধের ফলে ডাকাতদের একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং অপর একটি নৌকা ডুবে যায়। অভিযানে কোস্ট গার্ড ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ২১৬ রাউন্ড জীবন্ত গোলা ছোঁড়ে।
গুলি-যুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’ এর প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া আড়শিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ফোন ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃত ডাকাত রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত ডাকাত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।
আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করার জন্য কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে। দেশের স্বার্থে এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তায় স্থানীয় জনগণকে দস্যুদের তথ্য দেওয়ার জন্য কোস্ট গার্ডের নিকট সহায়তা করার অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে।