মালিকুজ্জামান কাকা:
দেশের অন্যতম প্রধান বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে নির্ধারিত পণ্যের অতিরিক্ত মালামাল পাঠানোর অভিযোগে দুই কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা এবং তিন সিপাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম चৌধুরী, এবং সিপাই জামশেদ, সাগর, ও হামিদুর রহমান।
সূত্র মতে, যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গোডাউন থেকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত ত্রাণ ভাণ্ডারে মালামাল বিতরণের জন্য রবিবার রাতে ১১.২০ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে একাধিক বস্তা মাল ভরানোর দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই লোডিং কার্যক্রম ২৩ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। একই গাড়িতে রাত ১১.৫৮ থেকে ১২.০৪-এর মধ্যে ফের মালামাল লোড হতে দেখা যায়। পরে, রাত ১২:৪৫ থেকে ১:১০-এর মধ্যে ঐ গাড়ি থেকে ২২-২৫টি প্যাকেজ পণ্য নামাতে দেখা যায়। এ সময় কাস্টমসের গোডাউনে কর্মরত আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই মোহাম্মদ সাগর সিসিটিভি ফুটেজে উপস্থিত ছিলেন, যার কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
লোড ও আনলোডকৃত পণ্যের পূর্বতন প্রমাণ অনুযায়ী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সিপাই মোহাম্মদ সাগর অবৈধভাবে প্রক্রিয়ার বাইরে এই পণ্য হস্তান্তর করছিলেন।
অন্যদিকে, একই রাতে ২টার দিকে কাস্টমসের অধীনে থাকা গোডাউন থেকে ত্রাণ ভাণ্ডারে বিধি-বহির্ভূত মালামাল পরিবহনের অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় থেকে প্রচুর পরিমাণ পণ্য জব্দ করে।
এই ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী এবং ট্রাকের চালক ও হেলপার আটক হন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসারে, গত রবিবার কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে ৩০২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না ঢাকায় পাঠানোর জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়, যা সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষ থেকে রাহাত হোসেন স্বাক্ষর করেন। পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী।
ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর নাম করে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করেন। যা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন রাতে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে বিজিবি। কাভার্ডভ্যানটি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে চেক করার পর গাড়ির মালামালের নথিপত্র পরীক্ষা করে বিজিবি।
যাচাইয়ের পর দেখা যায়, ঐ ট্রাকে ৬০০৮টি ভারতীয় শাড়ি, ৬৩টি থ্রি-পিস, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না, এবং ৩৩,২২২টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্সের পণ্য উদ্ধার করা হয়। এর মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এই ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইসহ মোট পাঁচজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা বর্তমানে বিষয়টির যাচাই করছি। দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।