প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ৯, ২০২৬, ৮:৪৯ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২২, ২০২৬, ৮:২৯ পি.এম.

খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তুষার শিকদারসহ ৫ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:

খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শীর্ষ সন্ত্রাসী তুষার শিকদারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। এ সময় তাদের থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।

রবিবার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সোমবার, খুলনা মহানগরের গোয়েন্দা কার্যালয়ে  অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আহদুজ্জামান।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— শেখপাড়া মেইন রোডের রুহুল আমিনের ছেলে মো. তুষার শিকদার, গোবরচাকা এলাকার এস এম আইয়ুব আলীর পুত্র মো. আবরার ফয়সাল বাদিন, শেখপাড়া লোহাপট্টির নুর ইসলামের ছেলে মো. আল আমিন, সোনাডাঙ্গা নবীনগর খালাসি মাদ্রাসা এলাকার গাউসুল আজমের পুত্র মো. আসিফ এবং টুটপাড়া জোড়া কল বাজারের মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক  ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার উদ্দেশ্যে কেএমপির পক্ষ থেকে এই মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আত্মগোপন করা সন্ত্রাসীদের অবস্থান  চিহ্নিত করা হয়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা খুলনার প্রখ্যাত সন্ত্রাসী ‘বি কোম্পানি’ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হওয়া স্বীকার করেছে, বলে দাবি করেছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের তথ্যে উল্লেখিত জায়গা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, “খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক  ব্যবসায়ী বা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান আগামী দিনেও চলতে থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি আর কোনো বাহিনী থাকবে না।”

পুলিশের এই অভিযান নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।