প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ৯, ২০২৬, ৮:৪৯ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ২:০৪ পি.এম.

ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা, উদ্ধার হচ্ছে না অবৈধ অস্ত্র; বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ

মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র একটি বিরাট সমস্যা হয়ে উঠেছে।বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাবাহিনী অভিযান ও গ্রেপ্তার অভিযান চালালেও নগরীতে পরিচিত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খুলনার একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী আত্মগোপনে চলে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বিদেশে চলে গেছে।তবুও তাদের  কিছু  সহযোগী এখনো কাজ করছে। তাই অস্ত্র ও অপরাধসংক্রান্ত ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে খুলনা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ক্ষমতা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, টেন্ডার পারলৌকিক এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলার জন্য বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একাংশ এখনো তাদের দখলে রয়ে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে মেহেদী বাহাদুর, আলমগীর, নূর আজিম, সাদ্দাম শেখ ও টার্গেট শাওনসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ আসামি এখনো ধরা পড়েনি।

খুলনা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র প্রকাশ করেছে, গত কয়েক মাসে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০টি সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একাধিক শীর্ষ ও মধ্যম স্তরের সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যবহৃত অধিকাংশ অস্ত্র আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অস্ত্র বিভিন্ন গোপন স্থান, নদী তীরের এলাকা, পরিত্যক্ত স্থাপনা এবং সহযোগীদের হেফাজতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, “শুধু সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডারও বের করতে হবে। কারণ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নতুন অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়।”

খুলনার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ নাগরিকরা এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, বেশ কিছু সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও অস্ত্র উদ্ধারে  অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্তর্নিহিত ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সন্ত্রাস নির্মূলে স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করা, সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো জরুরি। তারা জানান, পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, “অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ধরার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। এতে নগরীতে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।