মোঃ আল-মাহফুজ শাওন:
বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শেলা নদীতে সেলিনা বেগম নামে এক নারী জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে সুন্দরবনের জয়মনি এলাকার শেলা নদীতে মাছের পোনা সংগ্রহের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেলিনা বেগম আরও দুই নারী জেলেকে সঙ্গে নিয়ে শেলা নদীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় জাল টেনে মাছের পোনা ধরতে। এ সময় হঠাৎ নদী থেকে একটি বড় কুমির উঠে এসে তাকে আক্রমণ করে এবং পানির মধ্যে টেনে নিয়ে যায়।
ঘটনার আকস্মিকতায় সঙ্গে থাকা দুই নারী জেলে চিৎকার শুরু করেন এবং জালের লাঠি দিয়ে কুমিরটিকে আঘাত করে সেলিনাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে কুমিরটি তাকে ছেড়ে দিলে তারা দ্রুত সেলিনাকে উদ্ধার করেন, তবে ততক্ষণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান বলেন, “শেলা নদীতে মাছের পোনা ধরার সময় কুমিরের আক্রমণের শিকার হন সেলিনা বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
নিহত সেলিনা বেগম মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল শেখের স্ত্রী ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন ছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়বাসীরা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ এবং মাছের পোনা আহরণের সময় প্রায়ই বন্য প্রাণীর ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় জেলেদের। বিশেষ করে কুমির ও বাঘের আক্রমণের আশঙ্কা সবসময়ই থাকে।
এ ঘটনার পর সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বন বিভাগ নদী ও খালে মাছ আহরণের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

