স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা:
খুলনার জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘বি কোম্পানি’ সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘নবাব’ নামক একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর নগরজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, কৌতূহল এবং প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পোস্টটিতে সাধারণ জনতা, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ‘নবাব’ এবং ‘বি কোম্পানির’ নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক গোষ্ঠী নগরীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ‘নবাব’ ও ‘বি কোম্পানির’ পরিচয় নিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন না করতে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু মানুষ এটিকে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন করছেন—এই ‘নবাব’ আসলে কে? কেন তাদের নাম নিয়ে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে।
খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামটি গত মাসগুলোতে কথার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একদিকে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আবার অন্যদিকে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করছেন। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ‘বি কোম্পানিকে’ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও জনসেবামূলক উদ্যোগের খবরও উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘নবাব’ পোস্টের সত্যতা এবং এর পেছনে কারা রয়েছে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি কিংবা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য আসেনি। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নগরীর সচেতন মহলের লোকেরা বলছেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, চাঁদাবাজি বা ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটে, তা নিশ্চিতভাবে তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যগুলো যাচাই না করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে ‘নবাব’ পোস্টকে কেন্দ্র করে খুলনার বিভিন্ন স্থানে, চায়ের দোকানগুলোতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন একটিমাত্র প্রশ্ন—কী সেই ‘নবাব’, এবং ‘বি কোম্পানি’ি সম্পর্কে গোপনীয়তার শেষ কোথায়?

