Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

অনুমতির মেয়াদ শেষ হলেও শ্যামনগরে চলছে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অনুমতির মেয়াদ শেষ হলেও শ্যামনগরে চলছে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাকিবুল হাসান, (সাতক্ষীরা) শ্যামনগর প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভায় নকিপুর জমিদার বাড়ির পাশে প্রতিবন্ধীদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ঈদ আনন্দ মেলা’ এর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও মেলার কার্যক্রম চলমান  রয়েছে।

এ অবস্থার কারণে স্থানীয় জনসমাজে বিভিন্ন প্রশ্ন এবং অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে বিশেষভাবে, অনুমোদিত সময়  পার হওয়ার  পরও মেলা পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী  বাহিনী থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট অফিসের মাধ্যমে জারি করা এক পত্র অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাসের স্বাক্ষরিত একটি নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, শ্যামনগর ইউনাইটেড ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফা সোহেলের আবেদন গ্রহণ করে ২ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য প্রতিবন্ধীত্ব বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী ও সুস্থ বিনোদনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ও শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয় দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে, অনুমোদিত সময়সীমা শেষ হওয়ার চার দিন পরেও, অর্থাৎ ১৫ জুন পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলা চলাকালীন গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ স্বরে সাউন্ডবক্স ব্যবহার করে নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছে। রাতের এই উচ্চ শব্দের কারণে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সুস্থ বিনোদনের অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে বিনোদনের আয়োজন কতটুকু গ্রহণযোগ্য, এটি কি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসছে না?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমতি সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও মেলা চলমান থাকলে সে বিষয়টি প্রশাসনিক নিয়মের প্রতি প্রশ্ন তুলে।

তারা এই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন হচ্ছে, যদি অনুমোদনের মেয়াদ ১১ জুন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ১৫ জুন পর্যন্ত মেলা কিভাবে চলতে পারছে? আয়োজকরা কি নতুন কোনও অনুমতি নিয়েছেন, নাকি প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে মেলাটি চালাচ্ছেন? এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবস্থানও স্পষ্ট নয়।

অনুমতির মেয়াদ শেষ হলেও মেলা চালানোর ব্যাপারে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা পরিষ্কার হবে। মেলা কতদিন চলার কথা, সে বিষয়ে আমার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। আমি ছুটিতে ছিলাম, সে সময় মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জ্ঞাত আছি। তবে অনুমতির মেয়াদ কত ছিল বা বর্তমানে মেলা চালানোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, মেলার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এর পর মেলা চালানোর কথা নয়। যদি মেলা চলতে থাকে, তা তাদের দায়ভার আমি দেখছি।

Exit mobile version