উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:
নড়াইলের লোহাগড়ায় ‘টিকটক’ ভিডিওতে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক রচনার চেষ্টা করেও সফল হননি অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিক (২৭)।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসিকে খুনের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে লোহাগড়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুমনা ফেরদৌসী, লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক লিমন মল্লিক বলেন, তিনি চা দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার নির্বাহ করেন। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন এবং অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন। এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ জমত। তবে সুমনা তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করবে না।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে আবার টিকটক নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবির্তক হয়। এক পর্যায়ে লিমনের ধাক্কায় সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় পরে যান। পরে সে শ্বাসরোধ করে সুমনাকে হত্যা নিশ্চিত করে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে ১০টার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান লিমন। কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে ফিরে এসে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার করতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যা হয়ে থাকে। পরে রাতে লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাতে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।
লোহাগড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা অজিত কুমার রায় বলেন, অভিযুক্ত লিমন আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পরে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

