রাকিবুল হাসান, (সাতক্ষীরা) শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনের মান উন্নত করা এবং স্থায়ী আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের ট্রানজিশনাল ফান্ড (এএসডি) প্রকল্পের আওতায় বাড়ির পাশে সবজি চাষ ও প্রাণিসম্পদ পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৮টায় মুন্সীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নানান গ্রামের উপকারভোগীরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের আওতায় মোট ৩৬০ জন উপকারভোগীকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গরু, ছাগল, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি সবজি চাষের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন। সেইসাথে উচ্চ ফলনশীল সবজি উৎপাদন, প্রাণিসম্পদের যথাযথ পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং উপার্জন বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তৃত ধারণা প্রদান করা হয়।
প্রশिक्षণে উপকূলীয় এলাকার চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে আদর্শ কৃষি প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে উচ্চ বেডের পদ্ধতিতে চাষাবাদ, ঝুলন্ত পদ্ধতিতে সবজি উৎপন্ন করা, কমিউনিটি ভিত্তিক চাষ, বীজ সংরক্ষণ এবং ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের মতো আধুনিক কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া উপকারভোগীরা জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। একই সময়ে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ফ্রেন্ডশিপের ক্লাইমেট অ্যাকশন সেক্টরের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুয়েল হাসান বলেন, (এএসডি) প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা ভিত্তিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এমন উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিক আয়ের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

