Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

ভূমি সেবায় অনিয়মের অভিযোগ, সমালোচনায় গাবুরা ভূমি অফিস

ভূমি সেবায় অনিয়মের অভিযোগ, সমালোচনায় গাবুরা ভূমি অফিস

রাকিবুল হাসান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল গনি বিরুদ্ধে ভূমি সেবায় বেশ কিছু অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ মানুষ সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ডিজিটাল ভূমি সেবা নিতে এসে বিশেষ করে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, দাখিলা কাটা এবং খাস জমির বন্দোবস্তের প্রক্রিয়ায় খুবই সাংঘাতিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে তাদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে যে বর্তমান সরকারের নির্দেশনার আওতায় ভূমি সেবা ডিজিটাল করা ও সহজ করার কথা থাকলেও গাবুরা ভূমি অফিসে তার বিপরীত ঘটনার নজির দেখা যাচ্ছে। সরাসরি সেবা না দিয়ে কালিগঞ্জের জয়ন্ত নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ যেখানে ভূমি সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ এবং দালালমুক্ত করার চেষ্টা করছে, সেখানে এই ধরনের অভিযোগের ফলে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীরা মনে করছেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সেবাসমূহের ই-নামজারির আবেদনের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগ উঠেছে এবং মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকার সমস্যাও রয়েছে। দালাল চক্রের প্রভাব, সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট দালাল বা মধ্যস্থতাপ্রাপ্তির মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে যে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে, যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে বেশি।

যাতায়াত এবং ভৌগোলিক সমস্যাও রয়েছে: গাবুরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন। মানুষের যাতায়াত করতেই সমস্যায় পড়তে হয়, এর মধ্যে ভূমি অফিসে এসে দিনের পর দিন কাজ না হওয়ায় উপকূলের অসহায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলছে। নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে কেউ বলেছেন যে নামজারি সংশোধনের জন্য তিনি তিন মাস ধরে ঘুরছেন। অনলাইনে আবেদন করেও অফিসে আসলে বলা হয় সার্ভার ডাউন অথবা ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বাড়তি টাকা দিলে সব সমস্যা মিটে যায়।

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, জনবল অভাব ও মাঝে মাঝে ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার কারণে সেবা দিতে কিছু সময় লাগতে পারে, তবে কোনো অবৈধ লেনদেন বা ইচ্ছাকৃত হয়রানি হওয়ার সুযোগ নেই।

গাবুরার সাধারণ জনগণ উপকূলীয় অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক ভূমি সেবা পৌঁছানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Exit mobile version