Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে সাবেক শশুর বাড়ির ক্ষতি, শশুর ও শাশুড়ি আহত

সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে সাবেক শশুর বাড়ির ক্ষতি, শশুর ও শাশুড়ি আহত

সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে সাবেক শশুর বাড়ির ক্ষতি, শশুর ও শাশুড়ি আহত

মালিকুজ্জামান কাকা:

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামে বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক বিরাজমান। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা একটি সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী সাবেক জামাইয়ের পক্ষে তার সাবেক শশুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে, শশুর ও শাশুড়িকে গুরুতর আহত করেছে, এবং শশুরের চায়ের দোকানটিও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তারা এখন প্রতিদিন মাহিদিয়া এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী সাবেক শশুর লিয়াকত প্রশাসন থেকে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, চাস্তল লিয়াকতের শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। তবে তিনি ভয়ের কারণে চিকিৎসার জন্য যেতে পারছেন না। সন্ত্রাসীরা সর্বদা তার এবং পারিবারিক সদস্যদের উপর নজর রাখছে। কিন্তু তিনি জানেন না এই সন্ত্রাসীরা কারা। তবে যিনি সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছেন, সেই সাবেক জামাই আব্দুর রউফকে তিনি চিনতে পেরেছেন। আব্দুর রউফ মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের সলিয়া গ্রামের অধিবাসী। কিছুলোক আগে তিনি মাদক মামলায় জেল খেটেছেন। তার পিতার নাম গফুর গাজী। কিছুদিন বিদেশ থাকাকালীন দেশে ফেরার পর তিনি জোর করে লিয়াকতের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করেন।

এরপর তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপর অত্যাচার শুরু করেন। কিছু দিন আগে খাদিজার সঙ্গে তার তালাক হয়ে যায়। তারপর থেকে তিনি প্রায়ই হুমকি দেন। গত ২ জুন বিকালে প্রায় ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী লিয়াকতের চায়ের দোকানে এবং সংলগ্ন বাড়িতে আক্রমণ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা লিয়াকত ও তার স্ত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা দোকানে থাকা অর্থ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়েছে। এর পূর্বে সামছু গোলদারের বাড়িতে লিয়াকতের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ বিদ্যমান।

লিয়াকত বর্তমানে ভয়াবহ আতঙ্কে আছেন। তিনি সন্ত্রাসীদের ভয়ে খোলা জায়গায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তদুপরি, শরীরের নানা স্থানে আহত হওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট। তবে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না। ধারণা করা হচ্ছে তার কানের তলাও ভেঙে গেছে। এছাড়া সারাদেশে তার শরীরের আঘাত ফুটে উঠেছে, এবং বিভিন্ন জায়গায় কাঁটা ও ঘা রয়েছে।

মাহিদিয়ার স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আব্দুর রউফ কিছুদিন বিদেশে ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ সময় থেকে তিনি মাদকের সাথে জড়িত হন। এরপর তিনি ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য একজনের স্ত্রী খাদিজার সাথে জোর করে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নির্যাতন করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে খাদিজা তার কাছে থেকে দূরে চলে যান। মাদক মামলার কারণে আব্দুর রউফ জেলে বন্দি হন। মুক্তির পর তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করতে শুরু করেছেন। শহরের সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিনি মাহিদিয়াতে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন। শান্তিপ্রিয় মাহিদিয়া গ্রামবাসী শহরের সন্ত্রাসী এবং তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের দেখার ফলে ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

হরিহর নগর ইউপির নির্বাচিত প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আব্দুর রউফ পূর্বে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ছিলেন। এখন তিনি এলাকায় মাদকাসক্তি ও ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। খেদাপাড়ার কাছেই সলিয়া গ্রাম। তারা এসব ঘটনার প্রতি পুলিশ কেন চুপ রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না। তবে সলিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, কিছুদিন আগে রউফ মাদক মামলায় জেল খেটে জামিন পেয়েছেন। তিনি এখন মাদকাসক্ত এবং সন্ত্রাসীদের সাথে চলাফেরা করছেন।

Exit mobile version