Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা, শরণখোলায় মানববন্ধন

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা, শরণখোলায় মানববন্ধন

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা, শরণখোলায় মানববন্ধন

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের শরণখোলায় মিথ্যা এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, চিকিৎসকের যোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রতিবেদনের কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতে মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনকে আয়োজনকারীরা মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযোগ তুলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট এবং অপপ্রচার নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচিটি করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিবন্ধন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ডিবিসি নিউজসহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেছে।

এরপর, সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রকাশনার প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য, পোস্ট ও প্রচারণার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাংবাদিকতার বিষয়ে নয় বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে এই বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলা সম্পর্কে সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, আমি কাউকে সাংবাদিক হিসেবে অভিযুক্ত করে মামলা দেইনি। যারা সাংবাদিক পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি আশা করি তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

তিনি আরও জানান, মানববন্ধনে আমার এবং আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এমন ধরনের বিভ্রান্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিমত, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর সঠিক জবাব তথ্য-প্রমাণ দিয়ে না দিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চলছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মাহাবুবুর রহমান টুটুল বলেছেন, কামরুজ্জামান শিমুল একজন কনটেন্ট নির্মাতা। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত। এ মামলার প্রতি আমরা গভীর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছি।

Exit mobile version