বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমার ঘটনাকে ঘিরে নতুন এক মানবিক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে নিখোঁজ থাকা ফাতেমা’র মা ফজিলা বেগম অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার পরিবারকে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফজিলার মা, ভাই, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা বাগেরহাটে এসে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে মাজার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিচয় যাচাই শেষে ফজিলা বেগমকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ফজিলা বেগম নিখোঁজ হয়ে যান। তার সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি কুমিরের হামলায় প্রাণ হারানো ফাতেমা ছিল তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।
ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর বোনকে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ছোট ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে নাতনির মৃত্যু পরিবারের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে রয়েছে।
এদিকে ফজিলা বেগম স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারলেও বারবার তার মেয়ের কথা স্মরণ করছিলেন এবং আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলায় শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়ভাবে শোকের আবহ তৈরি হয়।কুমিরের হামলায় নিহত ফাতেমার মা পরিবারের কাছে ফিরলেন তিন বছর

