খন্দকার আলী আবীর, নড়াইলঃ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি যশোরগামী অ্যাম্বুলেন্স গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া যাচ্ছিল একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ইসমাইলের স্ত্রী জাহানারা এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবার নিহত হন। একই সাথে দুর্ঘটনায় আহত হন ইসমাইল-জাহানারা দম্পতির পুত্র এসআই আবু তাহেরসহ আরও তিনজন, সকলকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃত স্বামী ইসমাইল হোসেনের দেহ নিয়ে যশোরের গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময় অ্যাম্বুলেন্স ও একটি বাসের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে স্ত্রী জাহানারা বেগম ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবার হোসেন (৩০) প্রাণ হারান।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে নড়াইল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
ইসমাইল এবং জাহানারার বাড়ি যশোর সদরের পুলেরহাট এলাকার। অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবার লক্ষীপুর জেলার রামগাতি উপজেলার পূর্বচরকলাকোপা গ্রামের আব্দুল হাশিমের পুত্র।
দুর্ঘটনায় ইসমাইল-জাহানারা দম্পতির ছেলে ঢাকাস্থ পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের সহ অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে থাকা পরিবারের পাঁচ সদস্যও আহত হন। অ্যাম্বুলেন্সে একই পরিবারের নয়জন সদস্য ছিলেন, যারা যশোরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও পুলিশ জানাচ্ছে, যশোরগামী মৃতদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটির গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াগামী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ইসমাইলের স্ত্রী জাহানারা এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবার নিহত হন। এছাড়া, ইসমাইল-জাহানারা দম্পতির পুত্র এসআই আবু তাহের সহ পাঁচজনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এসআই আবু তাহেরের বাবা ইসমাইল হোসেন ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মৃতদেহ যশোরে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় চালকের সহিত দু’জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে কোন হতাহতের খবর নেই। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

