মো: আল-মাহফুজ শাওন:
খুলনার ফুলতলা এলাকায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১৭ বছর বয়সী মরিয়ম খানম নদীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে পৌনে ২টার সময় ফুলতলা খাদ্য গুদাম খেয়াঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যুবক আশিক শেখ অভয়নগর উপজেলার গোবিনাথপুর গ্রামের আজিজুর রহমান শেখের পুত্র। ঘটনার পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামের মো. বাদশা গাজীর কন্যা মরিয়ম খানম নদী সিদ্ধিপাশা পিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিল। রবিবার ফুলতলা রি-ইউনিয়ন হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞান পরীক্ষা শেষ করে সে বাবা-মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে ছিল।
এসময় ফুলতলা খাদ্য গুদাম খেয়াঘাটে নৌকায় উঠার সময় আশিক শেখ ধারালো ছুরি নিয়ে তাদের দিকে ধাওয়া করে। একসময়ে মরিয়ম নৌকার উপরে পড়ে গেলে তার পিঠের ডান দিকে ছুরিকাঘাত করা হয়, যার ফলে সে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আশিককে ধাওয়া করে দামোদর নলুয়া পাড়া এলাকা থেকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে ফুলতলা থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আহত মরিয়মকে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মরিয়মের মা টুকটুকি বেগম অভিযোগ করেন, আশিক শেখ প্রায় দুই বছর ধরে তার কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন স্থানে উত্যক্ত করছে। বিষয়টি অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরে পরিবারের সদস্যরা মরিয়মের সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত করতেন। তারপরও প্রতিদিন বিভিন্ন মোড় ও স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আশিক গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। রবিবার পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে তাদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিতেও মরিয়মকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. বাদশা গাজী ফুলতলা থানায় আশিক শেখের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

