মো: আল-মাহফুজ শাওন:
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আবারো সুন্দরবনে সক্রিয় ভয়ঙ্কর বনদস্যু করিম শরীফ দলের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে পরিচিত এই অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের পর দলের তিন সদস্যকে ধরা হয়েছে, তাদের কাছে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ডের সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মে বিকেল থেকে শুরু করে দুই দিন ধরে অভিযানের মাধ্যমে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল এলাকায় অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ডের মোংলা ও কোকিলমনি স্টেশন। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ডাকাতরা গুলি ছুঁড়তে শুরু করলে আত্মরক্ষার জন্য সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। এরপর ধাওয়া করে কোস্ট গার্ড তিন ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মেহেদী হাসান (২৫), রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এনায়েত (২৫)।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুইটি ওয়াকিটকি এবং চারটি চার্জার।
আটকের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোস্ট গার্ড জানাতে পেরেছে যে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল এলাকায় জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি এবং বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। এছাড়াও, মাছ ধরার ট্রলার ও বনজ সম্পদ বহনকারী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বনজীবীরা জানান, দস্যুদের ভয়ে অনেক জেলে ও মৌয়াল নির্ধারিত এলাকায় যেতে ভয় পান। সুন্দরবনে মাছ, মধু এবং গোলপাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়ই তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি হতে হয়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো বনভিত্তিক মানুষের জীবিকা এবং নিরাপত্তা উভয়েই এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৩ মে বন বিভাগের সহযোগিতায় করিম শরীফ বাহিনীর জিম্মিদেঁ থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

