Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ, অস্ত্রসহ আটক ৩

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ, অস্ত্রসহ আটক ৩

মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের শরণখোলা সংলগ্ন সুন্দরবনে বিখ্যাত ডাকাত করিম শরীফের গোষ্ঠীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায়, কোস্টগার্ড ওই বনদস্যুদের সক্রিয় ৩ সদস্যকে অস্ত্র এবং গোলাবারুদসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এরপর কোস্ট গার্ড মোংলা বেইজের বিসিজিএস তৌহিদ এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফ্টেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সুন্দরবনে সক্রিয় এই ডাকাতদল নির্মূল করার লক্ষ্যে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই অভিযানের পঞ্চম দফায় করিম শরীফের গোষ্ঠীর সদস্যদের আটক করা হয়েছে।

ডাকাত দলের সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা থানার সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। গত ১৩ মে বিকেল থেকে দুই দিনব্যাপী কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন কোকিলমনি যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতরা গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে তাদের追赶 করে তিনজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও চারটি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. মেহেদী হাসান (২৫) ও মো. রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মো. এনায়েত (২৫)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

অন্যদিকে, ১৩ মে বন বিভাগের সহযোগিতায় করিম শরীফ বাহিনীর জিম্মিদশায় থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। জব্দকৃত অস্ত্র এবং আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানাচ্ছে কোস্ট গার্ড।

Exit mobile version