রাকিবুল হাসান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের চাপের কারণে সাধারণ বনজীবীরা ভীষণভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন অনুমতি পত্র, বন অঞ্চলে প্রবেশের কাগজ, মধু আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় পারমিট এবং অন্যান্য কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
অনুসন্ধান করার পর জানা যায়, মধু আহরণ, কাঠ, গোলপাতা এবং মাছ ধরার ক্ষেত্রে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। বনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, অফিসের নিকটবর্তী কিছু দালাল নিয়মিতভাবে আবেদনকারীদের লক্ষ্যবস্তু করে এবং নতুন আগতদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাঁদের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করানোর জন্য বাধ্য করে।
বনজীবীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে মিলিত হয়ে দালালরা জেলেদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করছে। সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে হাজার হাজার টাকা হস্তগত করা হচ্ছে, যেমন ম্যানেজ খরচ, প্রবেশ সুবিধা এবং দ্রুত পাস প্রদান ইত্যাদি।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনে দুই ডজনেরও বেশি দালাল সক্রিয। বুড়িগোয়ালিনী ষ্টেশনে শহিদুল মোল্লা, জালাল মোল্লা, হাসান সরদার, ইসমাইল সানা, আসাদুল ও মোকলেছুর রয়েছে। কোবদক ষ্টেশনে লুৎফর ও মাসুম রয়েছে, কদমতলা ষ্টেশনে আমজাদ, আকবার ও রফিকুল মোড়ল, এবং কৈখালী ষ্টেশনে শহীদুল ইসলাম, মহাসিন গাজী, সালাউদ্দিন এসব দালালের কারণে জেলেরা নিরন্তর হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি নিয়মে কাগজ তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগলেও, দালালের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে কাজ সম্পন্ন হয়। এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। যদি টাকা প্রদান না করা হয়, তবে নানা অজুহাতে পাস আটকে রাখা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের বনজীবী তরিকুলসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় বন বিভাগের অফিসে সরাসরি গেলে সঠিক ব্যবহার পাওয়া যায় না, পরে দালাল এসে বলে তাঁর মাধ্যমে কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাঁদের সহযোগিতা নিতে হয়।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দীর্ঘকাল ধরে এই সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং, দালালদের কারণে প্রকৃত বনজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বহু দরিদ্র জেলে ঋণ নিয়ে বন প্রবেশের অনুমতি নিচ্ছেন এবং তারপর মধু বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে দালালদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তাঁরা জেলেদের কথা অনুযায়ী স্টেশনে গিয়ে পাস পারমিট করে আনছেন এবং বিনিময়ে কিছু খরচের টাকা গ্রহণ করেন। তাঁরা বলেন, জেলেদের সুবিধার জন্য এই কাজ করছেন এবং কোনও অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না, বরং যা দেয় সেটাই গ্রহণ করা হয়।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান বলেন, যদি দালালরা জেলেদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে থাকে তাহলে এ ব্যাপারে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা রেঞ্জকে দালালমুক্ত রাখা হবে।

